হাওজা নিউজ এজেন্সি: দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিক, আব্বাস আরাকচি ও সের্গেই ল্যাভরভ শুক্রবার এক টেলিফোনালাপে এই মন্তব্য করেন, জানিয়েছে প্রেস টিভি।
তারা উল্লেখ করেন যে ইউরোপীয় ত্রয়ী ক্রমশ নিরাপত্তা পরিষদকে প্রস্তাব ২২৩১ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করতে চাপ দিচ্ছে। এই প্রস্তাব ২০১৫ সালের ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) শেষে গৃহীত হয়েছিল, যা চুক্তিকে অনুমোদন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ সুগম করেছিল।
ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানকে “শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমকে সামরিক কাজে ব্যবহার করার” অভিযোগে অভিযুক্ত করে, যাতে তারা চুক্তির “স্ন্যাপব্যাক” প্রক্রিয়া চালু করতে পারে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অক্টোবর মাসে প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল সম্ভব।
আরাকচি ও ল্যাভরভ মনে করিয়ে দেন যে ইউরোপীয় দেশগুলো JCPOA-তে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে জুন মাসে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ সমর্থন করেছে। তাই তাদের “স্ন্যাপব্যাক” ব্যবহারের কোনো আইনগত বা নৈতিক ভিত্তি নেই।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে JCPOA থেকে সরে যায় এবং ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইউরোপীয় ত্রয়ী যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, নিজেরাও ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।
এছাড়া, চলতি বছরের শুরুতে তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (IAEA) চাপ প্রয়োগ করে একটি ভিত্তিহীন ও পক্ষপাতমূলক প্রস্তাব পাশ করায়, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর অজুহাত দিয়েছে। পরবর্তীতে ইউরোপীয় দেশগুলো ওই হামলার পক্ষে সর্বাত্মক রাজনৈতিক সমর্থনও দিয়েছে।
ইরান ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেন যে প্রস্তাব ২২৩১ নির্ধারিত সময়েই সমাপ্ত হওয়া উচিত। আরাকচির মতে, প্রস্তাবের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার নিরাপত্তা পরিষদ ও তার সদস্যদের।
দুই কূটনীতিকই বিভিন্ন স্তরে পারস্পরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন, যাতে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানগুলো আরও সুসংহতভাবে অগ্রসর হয়।
আপনার কমেন্ট